হামলার ঘটনা আড়াল করতেই টাকা বিতরণের নাটক, দাবি জামায়াতের

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় এক যুবককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়ভাবে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত আল গালিব নামে এক তরুণকে বাড়ি ফেরার পথে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক স্থানীয় নেতার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।
তবে বিএনপির দাবি, জামায়াতের নেতাকর্মীরা টাকা বিতরণের সময় আটক হয়েছেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতের এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বগুড়া-৪ আসনের নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়নে রাতে বাড়ি ফেরার পথে আল গালিবের ওপর হামলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়নের স্থানীয় বিএনপি নেতা লুৎফর মেম্বারের সহযোগী সিদ্দিকের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে মারধর করেন। এতে তিনি আহত হন।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানান।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারা দাবি করেন, হামলার ঘটনার পর বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতে পরিকল্পিতভাবে ‘টাকা বিতরণের নাটক’ সাজানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য, জামায়াতের দুই কর্মী ফারুক ও বেলালকে ধরে নিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাছুদের বাড়িতে বেঁধে রাখা হয়।
জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, হামলায় জড়িতরা নিজেদের দায় এড়াতে জামায়াতের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। ‘টাকা বিতরণ’ ইস্যু সামনে এনে মূল ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।
অন্যদিকে বিএনপি পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের সময় ধরা পড়েছেন। তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ওই সময় বা পরে কারও কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের কোনো তথ্য তারা জানেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, “প্রথমে মারধরের ঘটনা ঘটে, পরে সেটার দায় এড়াতে অন্য গল্প তৈরি করা হচ্ছে।”
জামায়াত নেতারা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হলে এলাকায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “পুলিশ পৌঁছানোর আগেই মারামারির ঘটনা ঘটে। টাকা বিতরণের অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দুই পক্ষই অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।”










